কয়লা রফতানির ওপর আরো নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার জন্য সরকার নির্ধারিত নতুন মূল্য চালুর উদ্যোগ দিয়েছে ইন্দোনেশিয়া। তবে তাদের শীর্ষ ক্রেতা চীনে এটি তেমন গ্রহণযোগ্যতা পাচ্ছে না। ফলে কয়লার মূল্য নির্ধারণে নতুন কাঠামো তৈরিতে জাকার্তার প্রচেষ্টা দুর্বল হয়ে পড়েছে। খবর রয়টার্স।
ইন্দোনেশিয়া ১ মার্চ থেকে এইচবিএ নামের সরকার নির্ধারিত নতুন মূল্য ব্যবহার শুরু করে। এর আগে এটি শুধু রয়্যালটি হিসাবের জন্য ব্যবহার হতো। তবে পরবর্তী সময়ে অভ্যন্তরীণ ও রফতানি লেনদেনের মূল্য নির্ধারণেও এটি বাধ্যতামূলক করার চেষ্টা চলছে।
চীনের দুই কয়লা ব্যবসায়ী জানান, প্রায় দুই মাস পার হলেও বেশির ভাগ চীনা ক্রেতা এখনো এইচবিএ ব্যবহার করছেন না। অধিকাংশ চালানই আগের ইন্দোনেশিয়ান কোল ইনডেক্স (আইসিআই) অনুযায়ী লেনদেন হচ্ছে। নতুন এ সূচকটি অনেক বেশি অস্বচ্ছ, সময়ের সঙ্গে পরিবর্তন কম হয় ও দামও তুলনামূলকভাবে বেশি।
ইন্দোনেশিয়ান কোল মাইনিং অ্যাসোসিয়েশন রয়টার্সকে জানায়, অধিকাংশ রফতানিকারকও এখনো এইচবিএ ব্যবহার করছেন না। কারণ ক্রেতারা পুরনো আইসিআই কাঠামোয় বেশি অভ্যস্ত।
ইন্দোনেশিয়ার জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের পরিচালক জুলিয়ান সিদ্দিক বলেন, ‘আমরা একটি মূল্যায়ন করেছি ও প্রভাব পর্যবেক্ষণ করছি। কাজ শেষ হলে তা নীতিনির্ধারণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে উপস্থাপন করব।’ তবে তিনি এ মূল্যায়ন সম্পর্কে বিস্তারিত কিছু জানাননি।
বিশ্বের শীর্ষ তাপীয় কয়লা রফতানিকারক দেশ ইন্দোনেশিয়া। দেশটি এখনো তাদের কয়লা রফতানি মূল্য নিয়ন্ত্রণে হিমশিম খাচ্ছে।
মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী, মার্চের শুরু থেকে নতুন সূচকটি স্পট ট্রেডের জন্য প্রযোজ্য হওয়ার কথা ছিল। তবে আগে স্বাক্ষর হওয়া দীর্ঘমেয়াদি চুক্তিগুলোর ক্ষেত্রে আইসিআই মূল্য ব্যবস্থাই বহাল থাকবে।
পারমাতা ব্যাংকের প্রধান অর্থনীতিবিদ জোসুয়া পারদেদে বলেন, ‘নতুন মূল্যনীতি রফতানিকারক ও সরকারের আয় বাড়ানোর লক্ষ্যে চালু করা হয়েছে।’
তবে তিনি সতর্ক করেন বেশি দামের কারণে ক্রেতাদের কাছে চাহিদা কমে যাওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে।
একটি ইন্দোনেশিয়ান কয়লা কোম্পানি নাম প্রকাশ না করার শর্তে রয়টার্সকে জানিয়েছে, উচ্চ এইচবিএ মূল্যের কারণে রফতানি কঠিন হয়ে পড়ছে। তাই তারা এখনো আইসিআই পদ্ধতিতেই বিক্রি করছে।